১ মে ২০১৯ সমকাল পত্রিকার ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করেই নিয়োগ নোবিপ্রবিতে, ৪ মে ২০১৯ বণিক বার্তা পত্রিকার ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘নোবিপ্রবি উপাচার্য, অনিয়মে শুরু অনিয়মেই শেষ, এবং ০৫ মে ২০১৯ ‘প্রথম আলো পত্রিকার’ প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘সমালোচনার কেন্দ্রে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য’ শীর্ষক সংবাদগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িয়ে বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য দেয়া হয়েছে। উদ্ভট তথ্যাদি দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন এমন সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত কাজে বিশ^বিদ্যালয়ের কমকর্তাবৃন্দ বাধা প্রদান করে। সম্মাতি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ মিথ্যা। উপরন্তু আমরা নোবিপ্রবি পরিবারের অফিসার্স এসোসিয়েশন এর পক্ষ হতে বাধা প্রদানকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম জানতে চাই। নতুবা সকল কর্মকর্তাকে ঢ়ালাওভাবে জড়িয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ আমাদের জন্য মানহানিকর। প্রকৃত অর্থে, আমাদের বক্তব্য হলো- কর্মকর্তাবৃন্দ এমন ঘটনায় জড়িত নয়।
সংবাদ প্রতিবেদনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ স্থগিতাদেশ দেয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগকাজ অব্যাহত রাখার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। প্রকৃত অর্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেরিত চিঠি পাওয়ার পর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ কর্মকা- চলেনি। শুধুমাত্র গত শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০১৯) অনুষ্ঠিত ৪৬ তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ইউজিসি অনুমোদিত ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে ৫০ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত,বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং সিলেকশন ও রিজেন্ট বোর্ড এর মাধ্যমে স¤পন্ন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের বিধি লঙ্ঘন করে উপাচার্যের সময়কালে কোনো নিয়োগ দেয়া হয়নি।
সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে প্রকাশ করা হয়েছে বিশ^বিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সংবাদটি ভিত্তিহীন, একইসাথে বিষয়টি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্য যেমন প্রশ্নবোধক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিব্রতকর। সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করে লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষার মাধ্যমে রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদক্রমে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যোগ্যতার ভিত্তিতেই হয়। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাটো করা হয়। আমরা এমন সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।
আমরা বলতে চাই, অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান নোবিপ্রবি’র উপাচার্য পদে যোগদান করার পর থেকে একটি চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ, সেশনজটে জর্জরিত, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হানাহানি সর্বদা অস্থিরতা বিরাজমান একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একটি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, মাদক, সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা বলতে চাই, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে একমাত্র দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং-র‌্যাগিং, মাদক ও সেশনজট মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপাচার্যের পরিচালনায় এ কয়বছর এক দিনের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়নি।

 

(স্বাক্ষরিত)

ইফতেখার হোসাইন
প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক,অফিসার্স এসোসিয়েশন

(স্বাক্ষরিত)

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান
সাধারণ সম্পাদক,অফিসার্স এসোসিয়েশন

(স্বাক্ষরিত)

ডা: মো: মোখলেস উজ জামান
সভাপতি,অফিসার্স এসোসিয়েশন