দ্যা ফ্রেন্ড অব হিউম্যানিটি পদক অর্জন নোবিপ্রবি উপাচার্যকে সংবর্ধনা


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের ‘তকুরঞ্জি এশিয়ান বুদ্ধিস্ট পিস অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ এবং ‘দ্যা ফ্রেন্ড অব হিউম্যানিটি’ পদক প্রাপ্তিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল ২০১৯) অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়।
পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন আইকিউএসি’র পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম, গীতা পাঠ করেন ড. ধীরেন্দ্রনাথ বর্মন, বাইবেল পাঠ করেন বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রভাষক লিজা রোজারিও ও ত্রিপিটক পাঠ করেন ইএসডিএম বিভাগের প্রভাষক তনুজা বডুয়া। এরপর অতিথিবৃন্দদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় বক্তব্য রাখেন, নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেলিম হোসেন, প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউছুফ মিঞা, মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়্যদ আতিকুল ইসলাম, আইআইএস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক, বিএলডব্লিএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দিব্যদ্যুতি সরকার, ফিমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদি মাহমুদুল হাসান, সিএসটিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. গাজী মো. মহসিন ,অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডা. মো. মোখলেস-উজ-জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সিএসটিই বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কৌশিক চন্দ্র হাওলাদার, বিএলডব্লিএস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক সালাউদ্দিন মিল্লাত, কৃষি বিভাগের প্রভাষক রায়হান আহমেদ, কর্মকর্তাদের পক্ষে সেকশন অফিসার মেহেদি হাসান নিশান ও অলিউদ্দিন আহাদ, কর্মচারীদের পক্ষে মাহবুবুর রহমান রিপসন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদ্দাম হোসেন ও মাকসুদা মিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. গাজী মো. মহসিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক।
বক্তারা বলেন, নোবিপ্রবি উপাচার্যের ‘দ্যা ফ্রেন্ড অব হিউম্যানিটি পদক অর্জন’ গৌরব ও সম্মানের। এর মাধ্যমে উপাচার্য মহোদয় এ পরিবারের সকলের মুখ বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়াও বক্তারা আরো বলেন, প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এর মতো দেশবরণ্যে শিক্ষাবিজ্ঞানী, সততা ও ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অগ্রসেনানির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কল্যাণ সাধিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও চলমান ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রাখতে উপাচার্য মহোদয় তার সমগ্র মেধা, সততা, নিষ্ঠা, সত্তা, শ্রম ও প্রজ্ঞা দিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, দপ্তরসমূহের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়কবৃন্দ, নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, আমি আপনাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম নিজের সমস্ত মেধা, যোগ্যতা, সততা ও যোগাযোগ সক্ষমতা দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবো। এখানকার শিক্ষার্থীরা আমাকে যে অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়েছে তার তুলনা হয় না। এ নোয়াখালীবাসি আমাকে যে বন্ধনে আবদ্ব করেছে, তা কখনো দাম দিয়ে কেনা যাবে না। গতকাল প্রখর রৌদ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও গোলচত্বর ঘিরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান আমাকে আপ্লুত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন সহস্র শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। আমি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রসঙ্গত, ০৭ এপ্রিল ২০১৯ জাপান ভিত্তিক বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধদের সংগঠন তকুরঞ্জি এশিয়ান বুদ্ধিস্ট পিস অ্যাওয়ার্ড -২০১৯ এর ‘দ্যা ফ্রেন্ড অব হিউম্যানিটি’ পান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। সংগঠনটি জাপানের নাগোয়ায় তকুরঞ্জি টেম্পলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরকে এ সম্মাননা পদকে ভূষিত করে। প্রতিবছর গৌতম বুদ্ধের জন্মোৎসব উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সারা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে স্কলাররা যোগ দেন। মানবাধিকার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীর উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য প্রতিবছর একজন স্কলারকে ‘দ্যা ফ্রেন্ড অব হিউম্যানিটি’ পদক দেয়া হয়। ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এ পদকটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহিদদের প্রতি উৎসর্গ করেন।