নোবিপ্রবি মাননীয় উপাচার্য সম্পর্কে টেলিভিশন ও ফেসবুকে কল্পনাপ্রসূত বক্তব্যের প্রতিবাদ


নোবিপ্রবি মাননীয় উপাচার্য সম্পর্কে টেলিভিশন ও ফেসবুকে কল্পনাপ্রসূত বক্তব্যের প্রতিবাদ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: দিদার-উল-আলম এর সুখ্যাতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গত ৯ জুলাই ২০২০ এসএ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘টকশো’ এবং ০৮ মে ২০২০ ‘নোবিপ্রবি উপাচার্য দপ্তর’ নামীয় আইডির ফেসবুক পোস্টের ফটো কমেন্টে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসএ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘টকশো’র একাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: দিদার-উল-আলম প্রসঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত ও উদ্ভট তথ্যের প্রচার করেছেন।

টকশো আলোচনায় দুর্র্নীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘মনে করেন আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম। বলা যায় যে, চল্লিশ বছর আমাকে চিনে সবাই। আমারটা কিন্তু এজেন্সিতে যাচাই হয়েছে। আার যারা দেখা যায় বাংলাদেশই মানেন না, আওয়ামী লীগের লোক তো নই-ই, তাকে যেখানে উপাচার্য করা হলো, এ ফাইলটা কিন্তু সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে গিয়ে সাইন হয়েছে। এটা কিন্তু আর এজেন্সিতে গেলো না’। আমরা এমন অসত্য, বানোয়াট বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

আমরা নোবিপ্রবি পরিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিছক কোনো ব্যক্তি কিংবা পদবি নয়, এটা একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম সম্পর্কে সাবেক উপাচার্য এমন নিন্দনীয় বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশের মাধ্যমে তিনি শুধু এই প্রতিষ্ঠানকে খাটো করেননি, তিনি নোবিপ্রবিসহ একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাঁদেরকে জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন ২০১৯ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো: দিদার-উল আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার ও এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জনাব মো. আবদুল হামিদ নোবিপ্রবি আইন ২০০১ এর ধারা ১০ এর (১) অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেন।

মাননীয় উপাচার্য ১৩ জুন ২০১৯ বিশ্ববিদ্যালযে যোগদান করেন। অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম ১৯৬৯ সালে নারায়ণগঞ্জের জয়গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এরপর তিনি স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন থেকে ১৯৯০ সালে প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। বর্তমানে ২০১১ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডের একজন অধ্যাপক। এছাড়া তিনি ১৯৮১-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক ড. মো: দিদার-উল আলম জীব বিজ্ঞান অনুষদের ২০১৭ সাল থেকে নীল দলের আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করেছেন এর আগে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অনেকদিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে স্টান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে ঢাকসু নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল আলম নোবিপ্রবি আইন ২০০১, আইন ও তফসিল (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি) ও নিয়ম-কানুন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যথা: রিজেন্টবোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠাগোত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এতে বিদ্বেষ প্রসূত হয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো অহিদুজ্জামান প্রতিহিংসামূলক বিভিন্ন বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে আসছেন।

আরও উল্লেখ্য যে, গত ০৮ মে ২০২০ নোবিপ্রবি উপাচার্য দপ্তর নামীয় আইডির ফেসবুক পোস্টের ফটো কমেন্টে সাবেক উপার্চায অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান কুয়েতে গ্রেপ্তারকৃত লক্ষীপুর-০২ আসনের বিতর্কিত সাংসদ জনাব কাজী শহিদ ইসলাম পাপলু ও তার স্ত্রী জনাব কাজী সেলিনা ইসলাম এম.পি এবং সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ এর সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমান উপাচার্য মহোদয়কে নিয়ে আপত্তকির মন্তব্য করেছেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলমকে জড়িয়ে এহেন অনভিপ্রেত বক্তব্যের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি করায় আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

 

স্বাক্ষরিত

ইফতেখার হোসাইন

জনসংযোগ কর্মকর্তা

জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর

নোয়খালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মোবা: ০১৭৩৩৯৯৮৮৯৪