প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিকাল ৩টায় এ সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা: দীপুমনি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুুল হক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফসানা মৌসুমী। এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সাংসদবৃন্দ, বঙ্গভবনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারবৃন্দ, নোবিপ্রবি’র সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড, সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্যগণ, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, নোবিপ্রবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ, দপ্তরপ্রধানবৃন্দ, নোয়াখালী জেলার জেলাপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, জেলার গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং সমাবর্তনে আগত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও গবেষকবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, নোবিপ্রবি পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এর সদস্যবৃন্দ ।

সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের ১০টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের ৬ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। সমাবর্তনে সর্বাধিক ২২৬৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ডিগ্রি ও ৪৪৫ জনকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ২১৮ জনকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। নোবিপ্রবি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিনগণ স্ব স্ব অনুষদভুক্ত বিষয়গুলো হতে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদানের জন্য মাননীয় চ্যান্সেলরের নিকট পেশ করেন। নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন ‘ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্স ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদানের জন্য মাননীয় চ্যান্সেলরের নিকট পেশ করেন। এরপর মাননীয় চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ডিগ্রি ঘোষণা করেন। সমাবর্তন উপলক্ষে বেলা ১২.৩০ থেকে নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েটরা প্যান্ডেলে আসন গ্রহণ করে। বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রসহ মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগমন করেন এবং সেখানে প্রথমে তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় আচার্য কৃতি গ্র্যাজুয়েটদের স্বর্ণপদক প্রদান করেন।

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ তার দেয়া সমাবর্তন ভাষনে বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বক্তব্যের শুরুতে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন সেইসব শহীদদের। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। নোয়াখালী বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক জ্ঞানী ও গুণী জন, যাঁরা তাঁদের মেধা, মনন ও প্রজ্ঞা দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন। ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৭৭ জনই বৃহত্তর নোয়াখালীর।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিসংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস সম্পর্কিত বিষয়ে পাঠদানের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ চালুর বিষয়টি অত্যন্ত প্রশসংনীয়। মহান মুক্তিসংগ্রামের আত্মত্যাগ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ইতিহাসকে বিবেচনায় নিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ শিরোনামে একটি কোর্স পড়ানো হয় জেনে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ডেলটা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছে। ডেলটা প্ল্যানের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত বিশাল সমুদ্রসীমার বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

নবীন গ্র্যাজুয়েটবৃন্দদের উদ্দেশ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ বলেন, আজ তোমাদের জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনে তোমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা নিয়ে কর্মজীবনের পথে পা বাড়াবে। মনে রাখবে ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে নিজ, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের কল্যাণসাধনে নিয়োজিত হয়। ইতিবাচক কর্ম, মেধা, প্রজ্ঞা, পরিশ্রম ও স্বদেশ প্রীতি দিয়ে তোমারই গড়ে তুলবে আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিন¤্রচিত্তে স্মরণ করেন। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দেয়া পদ ও প্রচারবিহীন মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে। এছাড়াও স্মরণ করেস বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহকর্মী জাতীয় চার নেতাকে।

নোবিপ্রবি’র এগিয়ে চলা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার চাহিদাকে মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি হল নির্মাণ করা হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে ১০তলা বিশিষ্ট কয়েকটি টাওয়ারের, যার মধ্যে রয়েছে- দেশের সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা টাওয়ার, কর্মচারী টাওয়ার, ৩তলা বিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয়ের। তৈরি করা হচ্ছে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট ভবন। আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনেসা মুজিব হলের শুভ উদ্বোধন করেছেন যার ফলে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন হয়েছে।

মাননীয় উপাচার্য আরো বলেন, দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হবে ২০তলা বিশিষ্ট ২টি হল। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল অনুষদের জন্য ২০তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন তৈরি করা হবে যেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের নানা বিষয় যেমন- রোবটিক্স, মেটারিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণা করা হবে। শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের চাহিদাকে বিবেচনায় তৈরি করা হবে একাডেমিক ভবন, ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ এবং ডে কেয়ার সেন্টার। ইতোমধ্যে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি মোবাইল অ্যাপস এন্ড গেইম ডেভলপমেন্ট ল্যাব এবং ১টি নেটওয়ার্কিং ল্যাব তৈরি হয়েছে। যার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আইসিটি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে যাচ্ছে বিজনেস ইনকিউবেটর সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ হাইটেক পার্ক।

প্রিয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপুমনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গুণগত শিক্ষার বিকল্প নেই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে দেশের শিক্ষাখাতের প্রসার ও মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। বৈশ্বিক পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২১০০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য ‘ডেলটা প্ল্যান’ প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ যার গর্বিত অংশীদার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সহশিক্ষা কর্যক্রমে নেয়া হয়েছে নানাবিধ উদ্যোগ।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা জীবনের এপর্যায়ে এসে আজ তোমরা যে ডিগ্রি অর্জন করেছ তাতে তোমাদের পরিশ্রমের পাশাপাশি রয়েছে তোমাদের অভিভাবক, সম্মানিত শিক্ষকম-লী, বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বোপরি রাষ্ট্রের সীমাহীন ত্যাগ। সুতরাং কর্মজীবনের প্রবেশের এ মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তোমাদের শপথ নিতে হবে যে- মানুষ হিসেবে তুমি যেমন তোমার নিজের ঠিক তেমনি তোমার পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সমাজ তথা রাষ্ট্র তোমার কাছে গভীর কর্তব্যবোধ প্রত্যাশা করে।

সমাবর্তন বক্তা ড. অনুপম সেন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ যাঁরা সমাবর্তনে ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলেন, তাঁরা জীবনের কর্মক্ষেত্রে, বৃহৎক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন, আমার শুভেচ্ছা রইলো, তাঁরা জীবনের ক্ষেত্রে জয়ী হোন, দেশকেও বৃহৎ কল্যাণে প্রাণিত করুন। সবশেষে এই কামনা করি, এই দেশ কেবলমাত্র ঐশ্বর্যশালীই হবে না, মানবিক মূল্যবোধেও মহিমান্বিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আজকের বিশ্ব শিক্ষার বিশ্ব। শিক্ষার ক্ষেত্রে যে জাতি যতটা এগোবে, সাফল্য অর্জন করবে, জীবন-ক্ষেত্রেও সে জাতি ততটাই অগ্রগতি অর্জন করবে, সমৃদ্ধি লাভ করবে; মানবতার অগ্রগতিও প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। একজন মানুষ সৃজনশীলতা অর্জন করে শিক্ষার মাধ্যমে, জ্ঞানের মাধ্যমে। এটি সে জন্মসূত্রে পায় না। একথা কারো আজ অজানা নয়, আজ থেকে চার দশক আগে শিক্ষার মূল্য বা প্রয়োজন সম্পর্কে বাবা-মায়ের, অভিভাবকদের যে অজ্ঞতা ও অবহেলা ছিল আজ আর তা নেই। অক্ষরজ্ঞানহীন পিতামাতারা, যাঁরা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবন ধারণ করেন, তাঁরাও আজ কেবলমাত্র তাঁদের ছেলেদেরই নয়, তাঁদের মেয়েদেরও শিক্ষার আলো দিতে বহু ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। মূলত বিনামূল্যে বই বিতরণই সাধারণ-জনকে শিক্ষায় বিপুলভাবে উৎসাহিত করেছে, উদ্দীপ্ত করেছে। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ৩৫ কোটি বই বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ বিশ্ব ইতিহাসেই একটি অনন্য ঘটনা। আমরা ইউরোপের ইতিহাস থেকে দেখেছি, শিক্ষার হার বাড়লে, এমনকি সাক্ষর সক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বাড়লে তা একটি দেশকে উন্নয়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। বাংলাদেশ বর্তমানে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু হয়তো তা খুব মানসম্পন্ন নয়।

ড. অনুপম সেন বলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার, প্রথম থেকেই শিক্ষাকে, বিশেষত প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই গত এক দশকে অনেকগুলো প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশকে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর করতে, দেশের শিল্পখাত ও সেবাখাতকে দ্রুত এগিয়ে নিতেÑ দেশের তরুণদের জন্য নানাক্ষেত্রে বিচিত্রমুখী কর্মসংস্থান করতে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূল্যবান ভূমিকা রাখবে, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আমাদের অর্থনীতির আকার ও সমৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য যে দক্ষ জনবলের, প্রযুক্তিবিদদের প্রয়োজন তা মেটানোর ক্ষেত্রে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আমি বিশ্বাস করি, আশা রাখি, বড় ভূমিকাই পালন করবে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন বলেন, মাননীয় চ্যান্সেলর, আমরা আপনার প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এজন্য যে আপনি ২য় সমাবর্তনে সভাপতির আসন অলংকৃত করেছেন। আপনার সদয় উপস্থিতি গ্রাজুয়েটসহ আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য ও কর্মমুখর হাস্যোজ্জ্বল দীর্ঘায়ু কামনা করি।

প্রিয় স্নাতক ও গবেষকবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাবর্তনের এ গৌরবময় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তোমরা কষ্টার্জিত ডিগ্রির সনদ ও কৃতিত্বের স্মারক হিসেবে পদক ও পুরস্কার গ্রহণ করছ। তোমাদের আজকের কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের গর্বিত অংশীদার তোমাদের মাতা-পিতা, পরিবার-পরিজন। তাই আমি তোমাদের শুভাশিসের পাশাপাশি তোমাদের মা-বাবা ও অভিভাবকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। এছড়া বিশাল পরিধির এ সমাবর্তন আয়োজনকে সফল ও সার্থক করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলে শ্রম দিয়েছেন। আমি প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও ভবন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের দুদিন আগে থেকে কালো গাউন পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। দিনভর ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈ চৈ ও কোলাহলে মেতে উঠে সবাই। গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে আগত অতিথিরাও সমাবর্তন আয়োজনের সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে।

ইফতেখার হোসাইন
জনসংযোগ কর্মকর্তা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়