সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নোবিপ্রবিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ উদযাপন
পহেলা বৈশাখের সার্বজনীনতা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক
..নোবিপ্রবি উপাচার্য

 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, বাঙালির জীবনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা নববর্ষ এক অসাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান সকলের, তাই এর মাহাত্ম্য ও সার্বজনীনতা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়–ক। পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনের মতোই যেন প্রতিটি দিন আমরা সকলে মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে পারি। তিনি আরো বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বৈশাখ। এসময় মাননীয় উপাচার্য নোবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। নোবিপ্রবি পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনা করে তিনি আরো বলেন, বাংলা নতুন বছর সকলের জীবনেই বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি আর সম্মৃদ্ধি। আজ রোববার (১৪ এপ্রিল ২০১৯) সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ বাসনা ব্যক্ত করেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ স্বল্প উন্নত দেশের পদমর্যাদা থেকে উত্তরণ করে উন্নয়নশীল এক আত্মমর্যাদাশীল দেশে পদার্পণ করেছে। এ সফলতা দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের, তাই নতুন এ বছর আমাদের সবার জন্যই সাফল্য আর অর্জনের বছর। এসময় তিনি বাংলা নববর্ষের এ সার্বজনীনতা ও বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতি-ঐতিহ্য হৃদয়ে ধারণ করে সকলকে আরো সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উদ্বোধনকালে নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচর-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফারুক উদ্দিন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোঃ মমিনুল হক, সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ আতিকুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজী মোহাম্মদ মহসিন, প্রক্টর ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ণিল আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা নববর্ষ’ এর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় দিনের প্রথমভাগে ‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ, তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ গানকে প্রতিপাদ্য করে নোবিপ্রবি পরিবারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এসে শেষ হয়। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নানা রঙের বাহারি পোশাকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সকলই মিলিত হয় বাঙালির প্রাণের এ উৎসবে। বাংলা-বাঙালির হিসেব ভুলে, নগর-গ্রাম আর ধনী-গরিবের বৈষম্য কাটিয়ে সবাই মেতে ওঠে সার্বজনীন বর্ষ বরণের মঙ্গল যাত্রায়। বাঙালির বর্ষবরণের এ বর্নাঢ্য আয়োজন বিশ্বের অন্যতম মঙ্গলযজ্ঞ।

শোভাযাত্রার সমাপ্তি শেষে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান ফিতা কেটে খেলার মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সেখানেই মাননীয় উপাচার্য উদ্বোধনী বক্তৃতা রাখেন। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঞ্চালকদের নাটকীয় উপস্থাপনায় নোবিপ্রবি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরেলা কণ্ঠের সংগীত ও কবিতা, শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দের গান, ছাত্র-ছাত্রীদের যৌথ নৃত্য পরিবশেনের মাধ্যমে জমে উঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরে দিনব্যাপী আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নোবিপ্রবি’র বিভিন্ন অনুষদসমুহের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, দপ্তরসমূহের পরিচালক ও অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

আশপাশের কলেজ ও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা মেলায় আসেন। এছাড়া দর্শণার্থীরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে। কারন সকাল দশটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। আগত অতিথি ও দর্শকরা প্রাণভরে সে অনুষ্ঠান উপভোগ করে।
প্রসঙ্গত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে উপাচার্য মেলা প্রাঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। স্টলগুলোতে বাঙালির চিরাচরিত পান্তা-ইলিশ, নানা ধরনের ভর্তা ও পিঠা, বিভিন্ন টক, ঝাল, মিস্টি জাতীয় খাবার স্থান পায়।

ইফতেখার হোসাইন
জনসংযোগ কর্মকর্তা
জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মোবা: ০১৭৩৩৯৯৮৮৯৪